হযরত হাসান (রাযিঃ) বলেন,
একদা রাসূলূল্লাহ (সা.) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) এর কোলে মাথা রেখে আরাম করছিলেন । তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন । ইতিমধ্যে হযরত আয়েশা (রা.) কেয়ামতের কথা স্মরণ করে কাদতে থাকেন । উনার অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়ে মহানবী (সা.) এর চেহারা মুবারকে পড়লে উনার ঘুম ভেঙ্গে যায় । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়েশা, তুমি কাদছ কেন ? হযরত আয়েশা (রা.) বল্লেনঃ আখেরাতের কথা মনে পড়েছে । আচ্ছা, তখন কি আপনার স্ত্রী পরিজনের কথা কি আপনি স্মরণ করবেন ? হুযুর বললেন,
'সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার জীবন-মরণ । তিন জায়গায় তো কারুরই কারো কথা স্মরণ থাকবেনাঃ যখন মীযানের পাল্লা স্হাপন করতঃ আমলের পরিমাপ করা হবে । মানুষ ভীত বিহ্বল থাকবে যে, তার নেকীর পাল্লা ভারী হয় নাকি বদীর পাল্লা ।আমল নামা বিতরণের সময়, তা ডান হাতে আসে না বাম হাতে । আর পুলসিরাত পার হওয়ার সময় ।'
আল্লাহ পাক বলেন,
"তোমাদের প্রত্যেককেই জাহান্নাম অতিক্রম করতে হবে । এটি অবধারিত সিদ্ধান্ত । অতঃপর আমরা (আমি )খোদা ভীরুদের নাজাত দিব আর জালিম -পাপিষ্ঠদের উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব "
(মারইয়ামঃ ৭১-৭২)
তাহলে পুলসিরাত তথা জাহান্নাম প্রত্যেকের অতিক্রম করা নিঃসন্দেহ বিষয় কিন্তু নাজাত পাওয়াটা অনিশ্চিত । তাই , অন্তরে মাঝে মাঝে সেই ভীতিপ্রদ ঘটনাটা অনুভব করুন । হয়তঃ এতে করে নাজাত পাওয়ার চিন্তায় এর প্রস্ততি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে । চিন্তা করুন , হাশরের মাঠে সেই ভয়াবহ দুর্যোগে মানুষের কি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হবে । আর জাহান্নামের শাস্তি তো ভয়াবহ ।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
' জাহান্নামীদের এক বালতি পূজ যদি দুনিয়াতে নিক্ষেপ করা হয় তবে সমগ্র দুনিয়াবাসী সেই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে । জাহান্নামীরা যখন পিপাসার দহনে ছটফট করতে থাকবে এবং পানির জন্য ফরিয়াদ জানাবে তখন এই পূজই তাদেরকে পানি হিসাবে পান করতে দেয়া হবে । তারা ডগডগ করে তা গলধঃকরণ করতে থাকবে কিন্তু তা গলা পর্যন্ত গিয়ে আটকে যাবে । এভাবে চর্তুদিক থেকে মৃত্যু যেন তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে । কিন্তু সেখানে যে কারো মৃত্যু নেই ।'
ভাই ও বোনেরা, দয়া করে জীবনের শত ব্যাস্ততার মাঝেও হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার কথা ভুলে যাবেন না । এ দুনিয়ার চক্ষু বন্ধ হলেই অন্য জীবন শুরু হয়ে যাবে । মহানবী (সা.) ও মা আয়েশার মত এত উচ্চ মর্যাদার আল্লাহর বান্দাগণও যদি হাশরের ময়দানের কথা স্মরণ করে কাদেন , তবে আমাদের মত পাপীদের কতটুকু সতর্ক থাকা উচিত ও কান্নাকাটি করা উচিত ?
আল্লাহ আমাদের সচেতনতা দান করুন ও আমাদের সেই ভয়াবহ বিপদের সময় রক্ষা করুন ।
সূত্রঃ মুক্কশাফাতূল ক্বুলুব - আত্নার আলো । ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
একদা রাসূলূল্লাহ (সা.) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) এর কোলে মাথা রেখে আরাম করছিলেন । তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন । ইতিমধ্যে হযরত আয়েশা (রা.) কেয়ামতের কথা স্মরণ করে কাদতে থাকেন । উনার অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়ে মহানবী (সা.) এর চেহারা মুবারকে পড়লে উনার ঘুম ভেঙ্গে যায় । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়েশা, তুমি কাদছ কেন ? হযরত আয়েশা (রা.) বল্লেনঃ আখেরাতের কথা মনে পড়েছে । আচ্ছা, তখন কি আপনার স্ত্রী পরিজনের কথা কি আপনি স্মরণ করবেন ? হুযুর বললেন,
'সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার জীবন-মরণ । তিন জায়গায় তো কারুরই কারো কথা স্মরণ থাকবেনাঃ যখন মীযানের পাল্লা স্হাপন করতঃ আমলের পরিমাপ করা হবে । মানুষ ভীত বিহ্বল থাকবে যে, তার নেকীর পাল্লা ভারী হয় নাকি বদীর পাল্লা ।আমল নামা বিতরণের সময়, তা ডান হাতে আসে না বাম হাতে । আর পুলসিরাত পার হওয়ার সময় ।'
আল্লাহ পাক বলেন,
"তোমাদের প্রত্যেককেই জাহান্নাম অতিক্রম করতে হবে । এটি অবধারিত সিদ্ধান্ত । অতঃপর আমরা (আমি )খোদা ভীরুদের নাজাত দিব আর জালিম -পাপিষ্ঠদের উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব "
(মারইয়ামঃ ৭১-৭২)
তাহলে পুলসিরাত তথা জাহান্নাম প্রত্যেকের অতিক্রম করা নিঃসন্দেহ বিষয় কিন্তু নাজাত পাওয়াটা অনিশ্চিত । তাই , অন্তরে মাঝে মাঝে সেই ভীতিপ্রদ ঘটনাটা অনুভব করুন । হয়তঃ এতে করে নাজাত পাওয়ার চিন্তায় এর প্রস্ততি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে । চিন্তা করুন , হাশরের মাঠে সেই ভয়াবহ দুর্যোগে মানুষের কি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হবে । আর জাহান্নামের শাস্তি তো ভয়াবহ ।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ
' জাহান্নামীদের এক বালতি পূজ যদি দুনিয়াতে নিক্ষেপ করা হয় তবে সমগ্র দুনিয়াবাসী সেই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে । জাহান্নামীরা যখন পিপাসার দহনে ছটফট করতে থাকবে এবং পানির জন্য ফরিয়াদ জানাবে তখন এই পূজই তাদেরকে পানি হিসাবে পান করতে দেয়া হবে । তারা ডগডগ করে তা গলধঃকরণ করতে থাকবে কিন্তু তা গলা পর্যন্ত গিয়ে আটকে যাবে । এভাবে চর্তুদিক থেকে মৃত্যু যেন তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে । কিন্তু সেখানে যে কারো মৃত্যু নেই ।'
ভাই ও বোনেরা, দয়া করে জীবনের শত ব্যাস্ততার মাঝেও হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার কথা ভুলে যাবেন না । এ দুনিয়ার চক্ষু বন্ধ হলেই অন্য জীবন শুরু হয়ে যাবে । মহানবী (সা.) ও মা আয়েশার মত এত উচ্চ মর্যাদার আল্লাহর বান্দাগণও যদি হাশরের ময়দানের কথা স্মরণ করে কাদেন , তবে আমাদের মত পাপীদের কতটুকু সতর্ক থাকা উচিত ও কান্নাকাটি করা উচিত ?
আল্লাহ আমাদের সচেতনতা দান করুন ও আমাদের সেই ভয়াবহ বিপদের সময় রক্ষা করুন ।
সূত্রঃ মুক্কশাফাতূল ক্বুলুব - আত্নার আলো । ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
Comments
Post a Comment